

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধরের ঘটনা ঘটে। রকিবুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ছোট ভাই।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি-সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার রহমান (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মণ্ডল (৩০), রুবেল মণ্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)।
আহতদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পাঁচজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এবং আরও তিনজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানপক্ষের লোকজন তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বজলুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।