
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তার ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম (৪০) জামিন পেয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সদর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজিম আল মিসবাহ।
মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য
রোববার বগুড়ার আদালত রেজানুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।
গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মামলাটি দায়ের করেন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন।
অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
তিনি বলেন, “মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝির জেরে মামলাটি দায়ের হয়েছিল। উভয় পক্ষই বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। খুব শিগগিরই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিক মহল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই একজন সংবাদকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মতপ্রকাশ ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখেন। আবার মামলার বাদীপক্ষের দাবি ছিল, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন বগুড়া সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন। মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদকসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
পরে বগুড়া সদর থানা মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় রেকর্ড করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিনিধি মো. শামস এবং জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসান।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জেলা সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উস্কানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের দাবি, সংবাদ প্রকাশ ও মতপ্রকাশের বিষয়কে ফৌজদারি মামলার আওতায় এনে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মামলাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
রেজানুর ইসলামের জামিনের আদেশের পর সাংবাদিক মহলের অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিরোধগুলো আইনি হয়রানির পরিবর্তে সংলাপ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
এদিকে মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি এবং অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

