চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলীতে প্রকাশ্যে গুলি করে রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে পরিচিত মো. আইয়ুবকে রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭।
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড আইয়ুবকে র্যাব-৭ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে ভোররাতে অভিযান চালানো হয়।
রোববার ভোররাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব সদস্যরা স্থানীয় শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মো. আইয়ুব (৪৫)-কে আটক করেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি র্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে মুঠোফোনে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া একজন আসামিকে র্যাবের একটি টিম চট্টগ্রামে নিয়ে গেছে।
গ্রেপ্তার আইয়ুব রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদলপুর সমশের পাড়া এলাকার আব্দুল মোনাফের ছেলে বলে জানা গেছে।
চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ তদন্তের পর র্যাব নিশ্চিত হয় যে আইয়ুব রাঙামাটিতে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, পরে দেশজুড়ে তোলপাড়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি অভিযান ও ছায়া তদন্ত শুরু করলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা আত্মগোপনে চলে যায়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যেই ধরা
র্যাব সূত্র জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা আইয়ুব রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে তার এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে।
এরপর অবস্থান নিশ্চিত করে রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা ও আসামি তালিকা
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত মাসুদুল হক চৌধুরীর বড় ভাই মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে ১৫ জুন রাত ১২টার দিকে মামলাটি করেন।
মামলায় মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। মামলাটি রাউজান থানার মামলা নম্বর–১৪ হিসেবে নথিভুক্ত।
নিহতের পরিচয়
নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন-এর ছোট ভাই এবং সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত খালেদ চৌধুরীর ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত
র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকাটিতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন, রাঙ্গামাটি :