প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

নগরকান্দায় সেতু উদ্বোধনের আগেই দখলের অভিযোগ

নগরকান্দা নতুন সেতু
এহসানুল হক মিয়া, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, টিনের বেড়া দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জায়গা ঘিরে ফেলায় সড়কের দৃশ্যমানতা কমে গেছে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেতু উদ্বোধনের আগেই বিতর্ক
নগরকান্দার জুঙ্গুরদী এলাকায় কুমার নদের ওপর নির্মিত নতুন সেতুর উত্তর পাশের ইউটার্নে টিনের বেড়া দিয়ে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এতে সড়কের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি: নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত দখলমুক্ত করা হোক ইউটার্ন এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সেতুটি নগরকান্দার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে সেতুর উত্তর প্রান্তের বাঁক ও ইউটার্ন অংশকে নিরাপদ করতে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।

পরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে সড়ক বিভাগ সেতুর জন্য ১৪টি ল্যাম্পপোস্ট বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।

কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সেতুর উত্তর পাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্ন এলাকায় টিনের বেড়া নির্মাণ করে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই বেড়ার কারণে চালকরা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন স্পষ্টভাবে দেখতে পারছেন না। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটিই টিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ফলে চালকদের সামনে কী আছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুতগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, সেতু নির্মাণের পর ওপর থেকে সরাসরি বাড়ির অভ্যন্তর দেখা যায়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ দখলের সম্পর্ক নেই।

স্থানীয় ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান বলেন, “সেতুর একপাশে খাড়া ঢাল, অন্যপাশে তীব্র বাঁক। এমনিতেই জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর টিনের বেড়া দেওয়ায় বিপরীত দিকের গাড়ি দেখা যায় না। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় চাপানো হবে চালকদের ওপর।”

নগরকান্দার বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, নগরকান্দাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। সেতুর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত টিনের বেড়া অপসারণ করা প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল তালুকদার) বলেন, “সেতুটি অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে এবং এটি নগরকান্দার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছে। প্রশাসনের উচিত সেতুর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, “ঘটনাস্থলে তহসিলদার পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্তরা টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য একদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু এখনো তা সরানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজোয়ানা আফরিন বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নই। এসিল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সেতুর এই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই উদ্বোধনের আগেই অবৈধ দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রিন্ট করুন