দেশের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গ্রুপ এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ী সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের
ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি BWCCI-এর
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি Oslo Business for Peace Awardসহ একাধিক জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
পারিবারিক ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিটল-নিলয় গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প নিলয় বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজয় কুমার মণ্ডল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সেলিমা আহমাদ ছিলেন দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ব্যবসায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ব্যবসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক Oslo Business for Peace Award অর্জন করেন। এছাড়া ২০২২ সালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা পদক লাভ করেন। এর আগে ২০১২ সালে Islamic Development Bank Award এবং Priyadarshini Award-এও সম্মানিত হন।
তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী সমাজ, নারী উদ্যোক্তা মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তারা বলেন, সেলিমা আহমাদের মৃত্যু দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :