জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের ছয় দিন পর কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
ঘটনার আগে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত কিশোরী উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ, বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে।
বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়ার নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রেখে যায়।
এরপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের ছয় দিন পর রোববার বিকেলে চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে মরদেহের অংশ দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে তারা পুলিশে খবর দিলে সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বলে শনাক্ত করেন। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

রোমানা আক্তার, বিশেষ প্রতিবেদক :