চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায় একটি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) আরটিজি ক্রেনে আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে টার্মিনালের দক্ষিণ অংশে আগুনের সূত্রপাত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের কয়েকটি কন্টেইনারে। ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- এনসিটির ৪ নম্বর বার্থে আরটিজি ক্রেনের ইঞ্জিনে আগুনের সূত্রপাত
- ৩৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বন্দর ফায়ার সার্ভিস
- পাশের একাধিক কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত
- চীন থেকে আসা ফ্রিজভর্তি একটি কন্টেইনারের পণ্য পুড়ে গেছে
- বিকেল সোয়া ৪টা থেকে পুনরায় শুরু হয় পণ্য ওঠানামা
বন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার এনসিটির দক্ষিণ অংশের ৪ নম্বর বার্থে কন্টেইনার স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত ১৪ নম্বর রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তাপ পাশের কয়েকটি কন্টেইনারেও ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। নিরাপত্তার স্বার্থে আগুন লাগা ৩ নম্বর ইয়ার্ডের একটি অংশ ঘিরে রাখা হলেও বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সংশ্লিষ্ট জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা পুনরায় শুরু হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কন্টেইনারগুলোর মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শিপিং কোম্পানি এমএসসির (মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি) একটি ৪০ ফুট দীর্ঘ আমদানিকৃত কন্টেইনার রয়েছে। কন্টেইনারটিতে চীন থেকে আনা শার্প ব্র্যান্ডের ফ্রিজ সংরক্ষিত ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কন্টেইনারটি ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল দেশে এলেও দীর্ঘদিন ডেলিভারি না নেওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটিকে নিলামের তালিকাভুক্ত করেছিল। নিলামে বিক্রির আগেই অগ্নিকাণ্ডে কন্টেইনারের অধিকাংশ পণ্য পুড়ে গেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর কন্টেইনার খুলে দেখা যায় ভেতরের প্রায় সব ফ্রিজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ। এখানে একসঙ্গে পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো যায় এবং বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় অর্ধেক এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০০৭ সালে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টার্মিনালে পরবর্তীতে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ১৪টি কি-গ্যান্ট্রি ক্রেন সংযোজন করা হয়।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :