বিশ্ব বাটপার ইউনূসের অর্থ ফেরতের বুলি, আড়ালে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের রেকর্ড! : সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে অর্থপাচার বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম মাওলা রনি। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ওই আমানতের বড় অংশই অবৈধ বাণিজ্যিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট এবং তা সরাসরি অর্থপাচারের সামিল, তারা মনে করেন বিশ্ব বাটপার ইউনুসের শাস্তি হওয়া দরকার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবৈদ প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ব বাটপার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে দেশ থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে এবং এর জন্য তিনি আরেকটি নোবেল বা ‘ডাবল নোবেল’ পাওয়ার দাবিদার—সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনির এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ঝড় তুলেছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া তার এই ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সুইস ব্যাংক) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যে যা বলা হয়েছে
টকশোতে গোলাম মাওলা রনি অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বলেন, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল। তবে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে তিনি দাবি করেন, বিশ্ব বাটপার ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা রাখার পরিমাণ ৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকারের আমলে অর্থপাচারের গতি বেশি উল্লেখ করে রনি রসাত্মকভাবে বলেন, “এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য ড. ইউনূসকে আরও একটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, এই বিষয়ে দেশে একটি গণভোট হওয়া দরকার, যেখানে ১৮ কোটি মানুষ নোবেল কমিটিকে ভোট দিয়ে ড. ইউনূসকে আরেকটি নোবেল দেওয়ার সুপারিশ করবে।
প্রকৃত সত্য: সুইস ব্যাংকের টাকা মানেই কি পাচার?
গোলাম মাওলা রনির এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে অর্থ জমা থাকে, তার বড় অংশই ব্যক্তিগত অর্থপাচার নয়, বরং বৈধ বাণিজ্যিক লেনদেনের অংশ।
- বাণিজ্যিক আমানত: সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (SNB) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের মোট জমার সিংহভাগই থাকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নামে (যা প্রধানত এলসি বা আমদানির বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে গ্যারান্টি বা আমানত হিসেবে রাখা হয়)।
- ব্যক্তিগত আমানতের চিত্র ভিন্ন: গত কয়েক বছরের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত বা গোপন অ্যাকাউন্টের আমানত সুইস ব্যাংকে ক্রমাগত কমছে।
- ভুল পরিসংখ্যানের ব্যবহার: বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উত্থান-পতনের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ডলারের পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে, যা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত অর্থপাচারের প্রমাণ নয়।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুইস ব্যাংকের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিসংখ্যানকে “অর্থপাচার” হিসেবে প্রচার করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছে সরকার।
এই খবরের গভীর বিশ্লেষণ এবং গোলাম মাওলা রনির পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন বাংলাদেশ টাইমস এবং কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :