পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপযুক্ত সময়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়ে ইরানের বর্তমান অবস্থান সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই পরিদর্শক পাঠানোর কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক তদারকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন আশা করছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এক নজরে
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে আইএইএ
- উপযুক্ত সময়ে পরিদর্শন হবে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র
- ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান
- উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান শনাক্ত করতে চায় আইএইএ
- যত দ্রুত সম্ভব পরিদর্শন শুরু করার পক্ষে সংস্থাটির মহাপরিচালক
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে ইরানের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোথায় রয়েছে তা নির্ধারণ করা। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইএইএ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে চায়।
গ্রোসি আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা গেলে তা আন্তর্জাতিক আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং আইএইএর মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আজকের কথা ডেস্ক