দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী ‘বিএনপি দেয় মামলা, জামাত দেয় সাংবাদিকদের নগদ পিটুনি’ এরকম মন্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মব সংস্কৃতির বিস্তার এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা ও হয়রানির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও এসব কার্যক্রমের পরিবর্তে একই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার মতে, দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। ওই ঘটনায় ‘দৈনিক সকালের’ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ একাধিক সাংবাদিক শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শরিফুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং মাঠপর্যায়ে হামলা—দুই ধরনের ঘটনাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, একদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভয়ভীতি, হয়রানি ও বাধা সৃষ্টি করা হলে তা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়ার দুই সংবাদদাতার নামও রয়েছে।
এছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল শেষে কয়েকজন সাংবাদিককে দুই দফায় মারধরের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা শারীরিক হামলার মতো ঘটনা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

আজকের কথা ডেস্ক