রংপুরে বিদ্যুতের পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিল গ্রহণ বন্ধের অভিযোগে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নেসকো রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, এবিএম মসিউর রহমান, আমিন মোস্তাজীদ, সুভাষ রায়, সবুজ রায় ও মাহবুব আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্রাহকদের মতামত উপেক্ষা করে নেসকো কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ৪ জুলাই জারি করা অফিস আদেশে নতুন সংযোগ এবং নষ্ট মিটার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে বিদ্যমান পোস্টপেইড মিটার অপসারণ করে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার বসানোর অভিযোগ উঠেছে।
নেতৃবৃন্দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে প্রিপেইড মিটার গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জকৃত ব্যালেন্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ অনুযায়ী বকেয়া বিলের কারণে কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে অন্তত ১৫ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে প্রিপেইড মিটার পদ্ধতি প্রচলিত আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়।
নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবামূলক খাত। সেখানে গ্রাহকদের আগাম অর্থ পরিশোধ করে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নেসকো একতরফাভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে তারা চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও জবরদস্তিমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্মারকলিপিতে জনদুর্ভোগ কমাতে পোস্টপেইড মিটার গ্রাহকদের বিল গ্রহণ অব্যাহত রাখা, প্রিপেইড মিটার স্থাপনে জোরজবরদস্তি বন্ধ করা, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি প্রত্যাহার, প্রযুক্তিগত হয়রানি বন্ধ, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

আজকের কথা ডেস্ক