প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

যেকোনো মুহূর্তে তিস্তায় পাহাড়ি ঢল, উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

পাহাড়ি ঢল
মো. লাজু মিয়া, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

উজানের ভারী বৃষ্টিতে সতর্ক প্রশাসন, প্রস্তুত ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলাসহ কয়েকটি নদ-নদীর পানি যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মাঝারি থেকে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় বাড়তি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২৫ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

হাইলাইটস
  • ২৫ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত বন্যার আশঙ্কা
  • তিস্তা ও ধরলার পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে
  • উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
  • ত্রাণ, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধার প্রস্তুতি সম্পন্ন
  • নদীতীরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান

সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে আগামী কয়েক দিনে অস্বাভাবিক ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

উজানের ওই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এতে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে দুই তীর উপচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা দেখা দিলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত নদ-নদীর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতি ঘণ্টায় কন্ট্রোল রুম থেকে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সর্বশেষ তথ্য জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রিন্ট করুন