‘হজ কেবল একটি সফর নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে বড় আত্মশুদ্ধির পরীক্ষা’
বাংলাদেশি হাজীদের জন্য হাজী পুনর্মিলনী সাধারণত বিভিন্ন হজ কাফেলা, ট্রাভেল এজেন্সি বা আঞ্চলিক হাজী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয়ে থাকে। এই মিলনমেলাগুলোতে পবিত্র হজের স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এমনই এক অনুষ্ঠান কুমিল্লার দেবীদ্বারে পবিত্র হজ পালন শেষে ফিরে আসা হাজিদের সম্মানে পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আবহ, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও আত্মিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা হজের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাইলাইটস
- দেবীদ্বারে হাজীদের সম্মানে পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা
- ‘হজ আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা’—অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম
- হজ-পরবর্তী জীবনেও তাকওয়া ও নৈতিকতা ধরে রাখার আহ্বান
- ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ
- দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে সিন্দাবাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আড়াইবাড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “হজ কেবল একটি সফর নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে বড় আত্মশুদ্ধির পরীক্ষা।”
তিনি বলেন, “আপনারা যারা আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র মক্কা ও মদিনার মাটি স্পর্শ করে এসেছেন, তারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। তবে হজের প্রকৃত সফলতা শুধু হজ পালনেই নয়, বরং হজ-পরবর্তী জীবনেও সেই তাকওয়া, সততা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা ধরে রাখার মধ্যেই নিহিত। মক্কা-মদিনা থেকে অর্জিত শিক্ষা আমাদের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হতে হবে।”
সিন্দাবাদ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর স্বত্বাধিকারী হাজী মো. জামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মো. আবুল হোসাইন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. সহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন মূন্স এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মো. ফেরদৌস আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া, মাওলানা মো. কামাল উদ্দিন মূন্সীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, পুনর্মিলনীর উদ্দেশ্য কেবল হজের স্মৃতিচারণ নয়; বরং হাজিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, “আমরা দেবীদ্বারের হাজিরা যেন একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে পারি, সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারি এবং একটি আদর্শ সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারি—আজকের এই দিনে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”
সভাপতির বক্তব্যে হাজী মো. জামাল হোসেন মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “আজকের এই বরকতময় ও আনন্দঘন পরিবেশে আমরা সবাই আবারও পবিত্র হজের স্মৃতিকে স্মরণ করার এবং একে অপরের সঙ্গে দ্বীনি ভালোবাসার বন্ধনে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। মহান আল্লাহর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আলহামদুলিল্লাহ।”
অনুষ্ঠি শেষে হাজিদের জন্য বিশেষ দোয়া ও দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

আজকের কথা ডেস্ক