উপাচার্যের ঘোষণা, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা জোরদার
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
হাইলাইটস
- ২৮তম সিনেটে ৮০১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
- ‘ডিগ্রি নয়, দক্ষ মানবসম্পদ’ গড়ার ঘোষণা
- ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ
- ১৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ
- ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা
শনিবার (২৭ জুন) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ২৮তম সিনেট অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“বিশ্ব আজ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের যুগ অতিক্রম করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব কেবল ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। আমরা এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা চাকরি প্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হবে।”
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ, উদ্ভাবনী ও কর্মমুখী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যুগোপযোগী শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তুলতে মাল্টি ল্যাংগুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট (এমএলএলআই)-এর মাধ্যমে মান্দারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষা শিক্ষা চালুর কথাও জানান তিনি।
এছাড়া দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি ও আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করা, সিলেবাস সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ২ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৮০১ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৬৬৪ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন। সিনেট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে উভয় বাজেট অনুমোদন করেন।
নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ফলে ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ঘাটতি থাকবে।
অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৫ কোটি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যেখানে ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে।
সিনেট চেয়ারম্যানের অভিভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা সংস্কার, আন্তর্জাতিকীকরণ, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং গবেষণামুখী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বর্তমান প্রশাসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ উপস্থাপন করেন।
অধিবেশনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় সিনেট সদস্য, সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, দপ্তরপ্রধানসহ প্রায় ৭০ জন সিনেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনলাইনে অধিবেশনে যুক্ত হন।

আজকের কথা ডেস্ক