প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

কক্সবাজার যাওয়ার পথে কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে শিশুকন্যাকে রেখে চলে গেল পাকিস্তানি পরিবার, প্রশাসনের তৎপরতায় নিরাপদে ফিরল নাফিসা

কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে রেখে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুকন্যা উদ্ধার
ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক :

ভুলে রেখে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার

কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে গিয়ে ভুলবশত নিজেদের শিশুকন্যাকে রেখে চলে যায় পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে আসা একটি পরিবার। পরে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় পাকিস্তানি শিশুকন্যা নাফিসাকে তার পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

   হাইলাইটস

  • কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে থেকে যায় শিশুকন্যা
  • জাইতুন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়
  • প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ
  • কর্ণফুলী টানেলে পৌঁছে শিশুর অনুপস্থিতি টের পায় পরিবার
  • নিরাপদে নাফিসাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিশুটির নাম নাফিসা। পাকিস্তানের কাশ্মীর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে তারা সড়কপথে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে পরিবারের প্রায় ১৫ সদস্য দুটি গাড়িতে করে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে যান। নাস্তা শেষে তাড়াহুড়ার মধ্যে সবাই গাড়িতে উঠে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিলেও ভুলবশত শিশু নাফিসা রেস্টুরেন্টেই থেকে যায়।

রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা নাস্তার সময় গল্প-আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। পরে দুটি গাড়িতে করে তারা রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করেন, কিন্তু শিশুটি সেখানে রয়ে যায়।

জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন জানান, পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর রেস্টুরেন্টে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং বিষয়টি সদর দক্ষিণ থানাকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দ্রুত ফিরে আসেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় জানান, শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল পরিবারটি কাশ্মীরের বাসিন্দা। পরে তারা শিশুটিকে নিতে এলে জানা যায়, তারা পাকিস্তানের নাগরিক এবং সপরিবারে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের একটি গাড়িতে ছিলেন শিশুটির বাবা-মা এবং অন্য গাড়িতে ছিলেন দাদা-দাদি। বাবা-মা ভেবেছিলেন নাফিসা দাদা-দাদির সঙ্গে রয়েছে, আর দাদা-দাদি মনে করেছিলেন সে বাবা-মায়ের গাড়িতে উঠেছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণেই শিশুটি রেস্টুরেন্টে থেকে যায়।

ইউএনও জানান, পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছানোর পর শিশুটিকে না দেখে বিষয়টি বুঝতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার দিকে ফিরে আসে। এরই মধ্যে উপজেলা সমাজসেবা অফিস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির নিরাপদ অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে পরিবারটি জাইতুন রেস্টুরেন্টে এসে নাফিসাকে নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করে।

প্রিন্ট করুন