টিউলিপ সিদ্দিক বৈশ্বিক রাজনীতি ও ব্রিটিশ কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটকে ঘিরে এক নজিরবিহীন ঐতিহাসিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নাটকীয় পদত্যাগের পর দেশটির পরবর্তী সরকারপ্রধান কে হচ্ছেন—তা নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নীতিনির্ধারণী মহলে চলছে জোর আলোচনা।
আর এই শীর্ষ পদের সম্ভাব্য তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে এক বাঙালি কন্যার নাম। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি এবং শেখ রেহানার সুযোগ্য কন্যা টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক।
লন্ডনের নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের পর লেবার পার্টির অভ্যন্তরে টিউলিপ সিদ্দিককে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে রূপরেখা তৈরি ও জোর গুঞ্জন চলছে। এই খবরটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলসহ বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালির মাঝে এক অভূতপূর্ব গৌরব ও চরম উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে এক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার
টিউলিপ সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের মূলধারার সংসদীয় রাজনীতিতে নিজের মেধা ও যোগ্যতার অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ২০১৫ সালের ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন’ (বর্তমান নাম হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট) আসন থেকে প্রথমবারের মতো লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই আসন থেকে টানা লেবার পার্টির এমপি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা আন্তর্জাতিকভাবে এক বড় স্বীকৃতি।
অভিজ্ঞতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি
এর আগে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি সরকারের ছায়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী (শ্যাডো সিটি মিনিস্টার) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে লেবার পার্টির গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যান্টি-করাপশন’ বা দুর্নীতি বিরোধী প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও নিযুক্ত হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
লেবার পার্টির ভেতর বর্তমানে এমন এক স্বচ্ছ, দূরদর্শী ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের খোঁজ করা হচ্ছে, যিনি বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে দল ও দেশকে শক্ত হাতে এগিয়ে নিতে পারবেন। এই সংকটের সময়ে টিউলিপ সিদ্দিকের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, অভিজ্ঞতা এবং দুর্নীতিবিরোধী শক্ত অবস্থানের কারণে দলের একটি বড় অংশ এবং শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা এই প্রভাবশালী বাঙালি কন্যার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
অনন্য এক মাইলফলকের অপেক্ষা
যদি এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, তবে তা হবে ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও বাঙালি নারীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক।
ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের এই মেগা রেস, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটি এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিমুহূর্তের খবরাখবর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক উইং।
(সূত্র: আইবিএননিউজ)

আজকের কথা ডেস্ক