দেরিতে উপস্থিতি, ওষুধ বিতরণে বৈষম্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের
নওগাঁর মান্দা উপজেলার নূরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কদমতলী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) রোকসানার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি ওষুধ বিতরণে অনিয়ম এবং রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের কারণে নারী, শিশু ও সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় ক্লিনিক খোলা থাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সিএইচসিপি অধিকাংশ দিন সকাল ১১টার দিকে কর্মস্থলে আসেন এবং দুপুর ১২টার আগেই চলে যান। এতে সকাল থেকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যপরামর্শের আশায় আসা নারী, শিশু, বয়স্কসহ অনেক রোগী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
খবরের হাইলাইটস
- কদমতলী কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ।
- দেরিতে আসা ও আগেই চলে যাওয়ার অভিযোগ সিএইচসিপির বিরুদ্ধে।
- সরকারি ওষুধ বিতরণে বৈষম্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ।
- নারী, শিশু ও সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দাবি।
- অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ক্লিনিকে ওষুধ চাইলে অনেক সময় বলা হয় ওষুধ নেই। পরে দেখা যায়, অন্যদের একই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয় না এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শও অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয় না।
আরেক গৃহবধূ বলেন, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলেও কদমতলী কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে অধিকাংশ সময়ই হতাশ হতে হয়। সেবার চেয়ে দুর্ব্যবহারই বেশি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, ক্লিনিকে সরকারি ওষুধের সরবরাহ থাকলেও অনেক প্রকৃত রোগীকে ওষুধ দেওয়া হয় না। বরং পরিচিত ব্যক্তি বা আত্মীয়স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে ওষুধ বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।
এছাড়া রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ না দেওয়া এবং ক্লিনিকের পাশের টিউবওয়েল থেকে গ্রামবাসীদের পানি পান করতেও নিরুৎসাহিত করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সহজলভ্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্লিনিকে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কদমতলী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রোকসানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাজমুল হক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :