প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, ডালিয়া ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট খুলে দিল কর্তৃপক্ষ

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে
মো. লাজু সরকার, লালমনিরহাট থেকে :

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে একই দিন বিকেল ৩টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে।

   তিস্তা নদীর পরিস্থিতি

  • ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।
  • পানির চাপ সামলাতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
  • লালমনিরহাটের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু।
  • শত শত একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি।
  • পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারি জোরদার।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

আকস্মিকভাবে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা রবিউল হাসান বলেন, এত দ্রুত নদীর পানি বাড়বে তা তারা কল্পনাও করেননি। তার চরের জমিতে বাদাম চাষ ছিল। আর কয়েকদিন সময় পেলে ফসল ঘরে তুলতে পারতেন। কিন্তু এখন পুরো ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের পাকার মাথা এলাকার কৃষক মশিয়ার রহমান। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই পানি বেড়ে যাওয়ায় তার বাদামক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীর পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডালিয়া পয়েন্টে তা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন