
র্যালি, সেমিনার, বক্তব্য প্রতিযোগিতা ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা
জলবায়ু সচেতনতায় বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল এলাকার মধুদিয়া ইচ্ছাময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সেমিনার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বক্তব্য প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
🌿 হাইলাইটস
- মধুদিয়া ইচ্ছাময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী জলবায়ু সচেতনতামূলক কর্মসূচি।
- র্যালি, সেমিনার, বক্তব্য প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত।
- শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ।
- বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ।
- জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান বক্তাদের।
“লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এলএএসইপি)”–এর আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং মধুদিয়া ইচ্ছাময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মেজর এস. এম. জিহাদুজ্জামান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মাসুদ।
কর্মসূচির শুরুতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। র্যালিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার আহ্বানসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান প্রদর্শন করা হয়।
র্যালি শেষে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মেজর এস. এম. জিহাদুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবন, পরিবেশ ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মাসুদ বলেন, বিদ্যালয় শুধু পাঠদান নয়, সামাজিক ও পরিবেশগত সচেতনতা তৈরিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু প্রবীণ কুমার ঘোষ বলেন, একটি গাছ রোপণ মানেই আগামী দিনের নিরাপদ পৃথিবীর জন্য বিনিয়োগ। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসা।
সিনিয়র শিক্ষক শেখ ইউনুচ আলী বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব, ঝুঁকি এবং করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরেন।
সহকারী শিক্ষক মুক্তা সরকার পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশীদ শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সহকারী শিক্ষক অঞ্জন সরকার বলেন, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তব উদ্যোগ ও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পবিত্র কুমার মণ্ডল।
পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি গ্রুপে বক্তব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শেষে দুই বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
কর্মসূচির শেষ পর্বে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অতিথিরা সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

