প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

মব বিতর্কে কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে।

সদ্য লন্ডন থেকে সেখানেও ‘মব’ ইস্যুতে একটি পুলিশি জটিলতার জন্ম দিয়ে দেশে ফিরেই সংসদ গরম করেছেন! এই তরুণ নেতা যাকে দেশের সর্বত্র জানে চিনে কালাপাঠা ও অনেকের মতে টোকাই, সেই টোকাই দেহমনে বেশ বলিষ্ঠ! আর তাই কণ্ঠেও বেশ ‘উত্তাপ’ ছড়ান। যেখানে যান, সেখানেই তিনি নিজের শরীরের ‘গরম’ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন! শরীর আর কণ্ঠের জোরে সব জয় করতে চান! উনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন যে ঠাণ্ডা মাথার কাজ কম; মাথা গরম তো শরীরও গরম। আর গরম শরীরে সব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়; নিজে গরম থাকবেন, কিন্তু অন্যকে ‘ঠাণ্ডা’ করতে পারবেন! তারুণ্যের এই গরম শরীর নিয়ে তিনি যখন জুলাইয়ের আন্দোলনে মাঠ কাঁপান, তখন সবাই তাঁকে খুব বিশ্বাস করে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। তরুণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর অন্য সঙ্গীদের ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ভেবে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিল।

  প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে অবস্থান করতেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

আন্দোলনের সময় ১০ নম্বর জার্সি পরে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে সুযোগসন্ধানী রাজনীতি এবং ‘মব সন্ত্রাস’কে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তুলেছেন তাঁর আন্দোলনেরই কয়েকজন সাবেক সহযোদ্ধা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও সামনে আসে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কয়েকজন কর্মীর চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তাঁর বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলন হলো, জয় এলো। তাদের ‘মনমতো’ অন্তর্বর্তী সরকার হলো। আর রাতারাতি বদলে যেতে থাকল সবকিছু। ব্যক্তিস্বাধীনতা, ভিন্নমত, বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ, ছাত্রদের অধিকার ইত্যাদি যত দাবিদাওয়া সামনে রেখে আন্দোলন হয়েছিল; সব মেবালুম ভুলে গিয়ে বিরোধী মত দমনের কঠিন মিশন নিয়ে চলতে শুরু করলেন।

তাঁর শরীর আর পেশি যে কত গরম, তা বুঝতে শুরু করল দেশবাসী। ঠাণ্ডা মাথার আর কোনো কাজই নেই! হাসনাত মানেই যেন হুমকি-ধমকি!

কি গণমাধ্যম, কি পুলিশ-সেনাবাহিনী, কি সুধী-শিল্পী-বাউল-মুক্তিযোদ্ধা—সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার নতুন সংস্কৃতির বিস্তার ঘটতে থাকল শিগগিরই। কিছু হলেই একে-তাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুংকার। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী সেনাবাহিনীকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পিছপা হননি এই তরুণ।

অথচ যখনই সংকটে পড়েছেন কিংবা মানুষের রোষানলে পড়েছেন, তখনই তাঁকে (কনির) হাত থেকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

কাউকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা মনে হলেই ভিন্ন চোহারা ধারণ করেন এই টোকাই হাসনাত! চোখ-মুখ বাঁকিয়ে গগনবিদারী হুংকার যাকে বলে! যাকে-তাকে দেওয়া তাঁর হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতির নমুনা দেখে সাধারণ মানুষও বুঝতে শুরু করল যে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেওয়া এই টোকাই হাসনাতরা আসলে মানুষের কোনো অধিকার নয়, বরং নিজেদের আখের গোছাতে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে, সব ভুলে এখন তারা ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া, সামাজিক মূল্যবোধের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শত সহস্র বছরের অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করতেই এতসব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। হাসনাতের মধ্যে আগামী দিনের নেতৃত্বের যে সম্ভাবনা ও গুণাবলি ছিল, তার অপব্যবহার করতে সময় লাগেনি। যখনই একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে চলে আসে, তখন থেকেই হাসনাত নিজের মতকেই সব মতের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে শুরু করেন। ‘নিজের মতই সেরা মত’—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হাসনাত নিজের নেতৃত্বগুণকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ‘মব সন্ত্রাস’কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান!

গ্রামের একজন রাজমিস্ত্রির সন্তান হয়ে নিজেকে ‘প্রলেতারিয়েত’ শ্রেণির অংশ ভাবা সেই টোকাই হাসনাত রাতারাতি ‘বুর্জোয়া’ মানসিকতা রপ্ত করতে থাকেন! গাড়ি আর টাকার নেশাও পেয়ে বসে তাঁকে।

কেমনে কেমনে যেন সব চলে আসে হাতের নাগালে। কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের পলকে তাঁর হাতে এসে ধরা দেয়। অথচ প্রশ্নও তোলা যায় না। যিনি প্রশ্ন করবেন তখনই চোখ-রাঙানি! কার ঘাড়ে কত মাথা যে হাসনাতের মব সন্ত্রাসের ভীতির মধ্যে এসব নিয়ে প্রশ্ন করে? কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের ইশারায় হাসনাত আর আরেক এনসিপি নেতা আসিফ মিলেঝিলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় জেলা পরিষদ প্রশাসক মুস্তাক মিয়া মুখ ফসকে বলে ফেলার পর হাসনাতের চোখ-রাঙানিতে সব ঠাণ্ডা। বিরোধী দলকে শায়েস্তা করার প্রসঙ্গে একবার শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দুইটা হোন্ডা, ছয়জন গুণ্ডা, বিরোধী দল ঠাণ্ডা। ’ অনেকটা ওই রকম আর কি! দেশে মব সন্ত্রাসকে সামনে থেকে উচ্চে তুলে ধরার কারিগর হাসনাত আবদুল্লাহ সময়ের সঙ্গে সংসদ সদস্যও হলেন। কিন্তু মবকে এখনো ‘না’ বলতে পারেননি। দেশজুড়ে মব দিয়ে সব হাসিল করে শিখে গেছেন এটিই সময়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, যা ব্যবহার করে যাকে প্রয়োজন ঠাণ্ডা করে রাখা যাবে! কিছু হলেই সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কাজ হাসিল করে নেওয়ার অভিনব কৌশল তিনি ভালোই রপ্ত করে নেন অন্তর্বর্তীর দুই বছরে। এটি এখন সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর ভুলে যেতে পারতেন! কিন্তু না, সেই পথে যাননি তিনি। সুযোগ পেলে পার্লামেন্টকেও ‘শাহবাগ’ বানিয়ে ফেলেন, যদিও তাঁর আরেক সহকর্মীকে এরই মধ্যে পার্লামেন্টকে শাহবাগ না বানানোর বিষয়টি স্পিকারের আসন থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী গত দুই বছরের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করে আরো জানা যায়, সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব দিলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব সংস্কৃতি’ বা উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরব থাকার কথা থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগ এবং বিলাসবহুল জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় একটি জাতীয় দৈনিককে হুমকির অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে আগেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ বা ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতিকেও অনেকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

টোকাই হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। যদিও তিনি আন্দোলনের সময় ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডে সেই ন্যায়বিচারের ধারণার পরিবর্তে মব সংস্কৃতি বা গণপিটুনিসদৃশ রাজনৈতিক আচরণের ছাপ পাওয়া গেছে বলে সমালোচকদের অভিমত।

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি ও তাঁর অনুসারীরা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারী বা সমালোচনাকারীদের ওপর সরাসরি হামলা না করে বরং তাঁদের সামাজিকভাবে ‘ট্যাগিং’ করে কোণঠাসা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বা তাঁর সমর্থকরা যাঁদের পছন্দ করেন না, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামী দোসর, ভারতের দালাল বা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই ধরনের আখ্যা দেওয়ার ফলে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কথা বলার পরিবর্তে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসেছে। নির্দিষ্ট কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক তাঁর বিলাসী জীবনধারা বা দুর্নীতির খতিয়ান নিয়ে প্রতিবেদন করলে সেখানে সরাসরি আইনি পথে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই সাংবাদিক বা প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক হেনস্তার শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে সংবাদ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এটি পরোক্ষভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের একটি মব পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলোকে অনেকেই ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখেন। তিনি যখন জনসভায় বলেন যে কারো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জায়গা থাকবে না, তখন তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী বা স্থানীয় ক্যাডাররা সেই বক্তব্যকে পুঁজি করে ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়। সমালোচকদের মতে, তিনি সরাসরি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার না করলেও তাঁর বক্তৃতার উত্তাপ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মব সন্ত্রাসে উসকানি দেয়।

মব সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া। হাসনাত আবদুল্লাহর কর্মকাণ্ডে অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার বা শাস্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বা প্রশাসনিক এলাকায় গিয়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কাউকে বরখাস্ত বা হেনস্তা করার প্রবণতা মব কালচারকে উসকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্ববিরোধিতার অভিযোগ হলো, একদিকে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘টাকা খাওয়া’ গোষ্ঠী হিসেবে গালিগালাজ করছেন এবং মব উসকে দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের মতো বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্বিমুখী নীতি প্রমাণ করে যে মব সন্ত্রাস তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতো সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা শুধু ব্যক্তিগত আচরণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, এই প্রবণতা ডালপালা মেলার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং পরোক্ষ প্রশ্রয় একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

মব সন্ত্রাস যখনই কোনো এলাকায় মাথাচাড়া দিয়েছে, সরকার সেগুলোকে কঠোর হাতে দমন করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বা তাঁর মতো নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর যখন মাঠ পর্যায়ে সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হাসনাত আবদুল্লাহর এই আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। প্রথমত, এটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন থমকে যায়। তৃতীয়ত, সমন্বয়কদের প্রতি আস্থা কমে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ, যারা জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তারা এখন এই মব সংস্কৃতির চর্চায় চরম হতাশ ও বিরক্ত।

গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে যখন বারবার হাসনাত আবদুল্লাহর বিতর্কিত জীবনযাপন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মব কালচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তখন সরকার সেটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেছে। কিন্তু সুধীসমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক কৌশল’, যেখানে মব ভায়োলেন্সকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে দমানো হচ্ছে। সরকারের এই প্রশ্রয়ই আজ হাসনাত আবদুল্লাহকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, এমনকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও উসকানিমূলক মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন।

মোটাদাগে বলতে গেলে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি আন্দোলনের সময় যে স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কথা বলতেন, আজ তিনি নিজেই সেই ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং মব কালচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

প্রিন্ট করুন