
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী বার্ষিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জন্মশতবর্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং মুনীর চৌধুরী: জীবন ও সাহিত্য পাঠ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সেমিনারে তিন সাহিত্যিকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণাধর্মী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অঙ্গনে সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জীবন ও সাহিত্য পাঠ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে রোববার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের তৃতীয় তলার ‘তরুণের সাধনা’ সম্মেলন কক্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মুনীর চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী বার্ষিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তিন সাহিত্যিকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মওলা (মওলা প্রিন্স)। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মো. সাহাবউদ্দিন।
তিন অধিবেশনে গবেষণাধর্মী আলোচনা
দিনব্যাপী আয়োজিত সেমিনারটি তিনটি পৃথক অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অধিবেশনে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও সমাজভাবনা নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পরে এসব প্রবন্ধের ওপর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক জুয়েনা জাহান এ্যানি এবং সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।
সাহিত্যচর্চায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ
বক্তারা বলেন, রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম কেবল বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের জীবনদর্শন, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাহিত্যচিন্তা শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের একাডেমিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, গবেষণা ও মানবিক চর্চায় আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. ফারহানা শাহরিন, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনিস হাসিনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি, গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং প্রাণবন্ত আলোচনায় সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও গবেষণা অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ এক আয়োজন হিসেবে প্রশংসিত হয়।

