প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

জন্মের পরই মিলবে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি, এক পরিচয়ে সব সরকারি সেবা

এক নাগরিক এক ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবস্থার প্রতীকী চিত্র।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি’ উদ্যোগ

জন্মের পরই মিলবে একটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি। এ সেবা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই একক পরিচয়ের মাধ্যমেই একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ভূমিসেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

FEATURED NEWS
প্রতিবেদনের প্রধান বিষয়
সরকার ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের পরই প্রতিটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে, যার মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এনআইডি, পাসপোর্ট, ভূমিসহ সব সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।
✔ এক পরিচয়ে সব সেবা  |
✔ তথ্য সুরক্ষায় কনসেন্ট বাধ্যতামূলক

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী রেহান আসিফ আসাদের ধারণা থেকে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি ও বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে বাবা-মায়ের এনআইডির তথ্যের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নবজাতকের স্থায়ী

ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। স্মার্টফোনভিত্তিক এই ওয়ালেটে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও প্রয়োজনীয় সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। এটি সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে নাগরিকের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। পুরো ব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ডি-স্টার (Digital Service Transformation for Access and Resilience) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রিন্ট করুন