
প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক পদ শূন্য, পাঠদানে বাড়ছে সংকট
১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সেই ১৬৮ বছরের মুরাদনগর ডিআর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, কমছে শিক্ষার মান এবং বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে অবস্থিত ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৬৮ বছরের সেই পুরানো ঐতিহ্যবাহী মুরাদনগর ডিআর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক ও জনবল সংকটের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ১৬৮ বছরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া গণিত, ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে দুটি করে অনুমোদিত পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন করে শিক্ষক।
শুধু শিক্ষক সংকট নয়, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন, ঝাড়ুদার ও নাইট গার্ডের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অস্থায়ী কর্মচারীদের দিয়ে কার্যক্রম চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ের ভবনের জানালার থাই গ্লাসসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলে তা মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে, যাতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, ১৬৮ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই সরকারি বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মুরাদনগরের শিক্ষা ও ইতিহাসের অন্যতম ভিত্তি। দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ সব শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

