প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মুরাদনগরে ১ হাজার কোটি টাকার মামলায় সাংবাদিক আরিফ গ্রেপ্তার: ২৪ ঘণ্টাতেও আদালতে না তোলায় বিতর্ক

সাংবাদিক আরিফ গ্রেপ্তার, কুমিল্লা সংবাদ, মুরাদনগর, মানহানি মামলা, বিএনপি নেতা
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১ হাজার কোটি টাকার মামলায় সাংবাদিক আরিফের গ্রেপ্তার নিয়ে চলছে নাটকিয়তা।বিএনপি নেতার দায়ের করা এক মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও আদালতে উপস্থাপন না করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, তাকে অযথা থানায় আটকে রেখে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

   সংবাদের হাইলাইট

  • গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ।
  • ধর্ষণ মামলার সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার দায়ের করা ১ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।
  • আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে সাংবাদিকদের একাধিক ফোনকলের জবাব দেননি বলে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ।
  • ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা।
  • স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মুরাদনগর থানা পুলিশ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর দাবি করে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত সমন জারি করার পর পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

মামলায় বাদীর দাবি, ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলী বিএনপির কেউ নন; তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। সংবাদে তাকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করায় দল এবং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে গ্রেপ্তারের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন না করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিলম্বের মাধ্যমে সাংবাদিককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারের পর মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি যে একজন সাংবাদিক, সেটি আগে তাদের জানা ছিল না। তবে পরদিন আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওসি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার উচিত গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া। এ বিষয়ে নীরবতা জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে, একজন উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়েরের ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকেই এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দাবির যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন