প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ফুলছড়ি কেন্দ্রে তীব্র ক্ষোভ; তদন্তের আশ্বাস

ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা
আজকের কথা ডেস্ক

ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদলের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

  সংবাদের হাইলাইট
  • নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদল করে এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়।
  • পরীক্ষার সময় অভিযোগ জানালেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ।
  • ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
  • শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
  • ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রের ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে এ অনিয়ম ঘটে। পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়টি জানালেও তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে অন্য কক্ষের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর প্রশ্নপত্র অদলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া একাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী জানান, প্রায় ৬০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। অন্যদিকে ১০৯ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের বৃহত্তর সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে প্রশ্নের উত্তর লিখতে বাধ্য হয়েছেন।

নিয়মিত পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার বলেন, পরীক্ষার সময়ই তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে অন্যদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেই ভুলটি নিশ্চিত হওয়া যায়। একই অভিযোগ করেন ওই কক্ষের পরীক্ষার্থী শিমু আক্তার, হিরা আক্তারসহ আরও অনেকে।
অনিয়মিত পরীক্ষার্থী আব্দুল আহাদ ও আদহাম বুলখী বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র পাওয়ায় তাদের পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফলাফল নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দায়িত্বহীনতার কারণে তাদের সন্তানদের একটি শিক্ষাবর্ষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দাবি করেন।

ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে।

বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কতজন পরীক্ষার্থী এ সমস্যায় পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর কেন্দ্র সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন।

ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মশিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে।

গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পৃথক কক্ষে বসানো এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে যথাযথভাবে যাচাই করা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

প্রিন্ট করুন