
নরসিংদীতে এইচএসসিতে পুরোনো প্রশ্নপত্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভুলবশত পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) অংশের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। পরে তাদের কাছে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও অতিরিক্ত সময় না দেওয়ায় ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
- নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছু এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
- ১৫ মিনিট পর ভুল ধরা পড়লে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
- দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
- ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
- পরীক্ষার্থীদের ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
কেন্দ্র সচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুলবশত কিছু শিক্ষার্থীর কাছে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র চলে যায়। বিষয়টি জানার পরপরই তা পরিবর্তন করে নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর এবং নরসিংদীবাসীর জন্যও সম্মানের বিষয়।”
তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সারোয়ার আলম বলেন, জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক বলেন, এ বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ, কেন্দ্র পরিচালনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এই সাবসেন্টারে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩১টি কেন্দ্রে মোট ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২১৪ জন পরীক্ষার্থী।

