প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

ফরিদপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ সন্তানের চারজনের মৃত্যু, সংকটাপন্ন এক নবজাতক

ফরিদপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ সন্তানের মধ্যে জীবিত একমাত্র নবজাতক চিকিৎসাধীন
আজকের কথা ডেস্ক

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একটি ছেলে নবজাতক হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে আরও একটি ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র ছেলে শিশুকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সংবাদের হাইলাইট
  • ফরিদপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
  • গর্ভধারণের প্রায় সাড়ে ছয় মাসে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় শিশুদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
  • বর্তমানে একটি ছেলে নবজাতক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
  • চিকিৎসকদের মতে, নবজাতকদের ওজন ছিল মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।
  • উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরিবার তাদের স্থানান্তর করেনি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন ২২ বছর বয়সী চাঁদনী বেগম।

বিরল এ প্রসবের ঘটনায় হাসপাতালে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার নবজাতকের মৃত্যুর খবরে নেমে আসে শোকের ছায়া।

চাঁদনী বেগম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দেড় বছর আগে একই উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান ডলারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্বামী বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে বলে নিশ্চিত হন। শুরু থেকেই এটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক প্রসব শুরু হয় এবং মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে পাঁচটি নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের সময় প্রতিটি শিশুর ওজন ছিল আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম।

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, জন্মের পর পাঁচ শিশুকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অপরিণত অবস্থায় জন্ম এবং অত্যন্ত কম ওজনের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল।

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, পাঁচ শিশুই জীবিত জন্ম নিয়েছিল। কিন্তু তারা ‘এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট’ নবজাতক হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল।

এ ধরনের শিশুদের সাধারণত উন্নত নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (NICU)-এ চিকিৎসা দিতে হয়। হাসপাতালের সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে তাদের ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ গর্ভধারণের মেয়াদ ৩৭ থেকে ৪০ সপ্তাহ হলেও এই নবজাতকদের জন্ম হয়েছে প্রায় ২৮ সপ্তাহের আগেই। ফলে তাদের ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হয়নি। এ কারণেই মৃত্যুঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি।

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। কিন্তু অপরিণত প্রসব ও জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে চার নবজাতকের মৃত্যুতে আনন্দের মুহূর্তটি পরিণত হয়েছে গভীর বেদনায়। এখন পরিবারের সব আশা একমাত্র জীবিত শিশুটিকে ঘিরেই।

প্রিন্ট করুন