প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ইসলামপুর সরকারি কলেজ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জামালপুর সংবাদ
আজকের কথা ডেস্ক

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগে জামালপুরের ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং রাজনৈতিক পদধারী এক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগে কলেজজুড়ে অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও সচেতন মহল।

সংবাদের হাইলাইট

✅ ইসলামপুর সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

✅ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও সচেতন মহল।

✅ জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অসঙ্গতি দেখিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

✅ অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেছেন, বিধি মেনেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

✅ কলেজজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গত ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নূরে আলম মনিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১৯ মে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষক সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন না। এছাড়া সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

কলেজ সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী অন্যত্র বদলি হলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পাঠানো জ্যেষ্ঠতার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নন-ক্যাডার শিক্ষকদের ২৪ সদস্যের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় নূরে আলম মনির অবস্থান ছিল ১৩তম। অথচ নিয়োগের জন্য পাঠানো প্রস্তাবে তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকায় উপরের দিকে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত জ্যেষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষকের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জ্যেষ্ঠতার সপ্তম অবস্থানে থাকা প্রভাষক শেখ মো. রহুল আমীন জীবন বলেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কীভাবে নূরে আলম মনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেন, তা তার জানা নেই। তিনি এ বিষয়ে কোনো অনাপত্তিপত্রেও স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি গোপন রেখে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরে আলম মনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ীই তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন।

প্রভাষক মো. রুকন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সময় তাড়াহুড়ার কারণে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় ভুল হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।

বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আহাম্মদ আলী বলেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক রুকন উদ্দিনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। এরপরের বিষয়টি তার জানা নেই।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব বলেন, নূরে আলম মনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে রয়েছেন বলে তিনি জানেন।

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রিন্ট করুন