
মামলা ছাড়া আটক ঘিরে নতুন বিতর্ক
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতিকে মামলা ছাড়াই আটক করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কোনো মামলা ছাড়াই তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে থানায় নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তিনি আগে দায়ের হওয়া একটি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া ভবেশ তারিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মশিউর রহমান (৪১)-কে আটক করে উলিপুর থানা পুলিশ। তিনি ওই এলাকার ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের দাবি, আটকের সময় মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাকে থানায় নেওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলায় আসামি দেখিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, গত ৭ জুন ধামশ্রেণী ইউনিয়নের রানীগঞ্জ চৌমুহনী-অনন্তপুর সড়কের টেংরাকুড়া ব্রিজ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে, লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে নাশকতা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে এবং সেই মামলার পলাতক আসামি হিসেবে মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন,
“গ্রেপ্তারকৃত মশিউর রহমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার আসামি। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

