প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

একই মঞ্চে ৭ জুটির যৌতুকমুক্ত গণবিয়ে, মুসলিম-হিন্দুর সম্প্রীতির অনন্য নজির লালমনিরহাটে

লালমনিরহাটে একই মঞ্চে সাত জুটির যৌতুকমুক্ত গণবিয়ে
আজকের কথা ডেস্ক

যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে লালমনিরহাটে একই মঞ্চে ৭ জুটির যৌতুকমুক্ত গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে ছয়টি মুসলিম ও একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী জুটির বিয়ে সম্পন্ন হয়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

সংবাদের হাইলাইট

✅ একই মঞ্চে ৭ জুটির সম্পূর্ণ যৌতুকমুক্ত গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।

✅ নবদম্পতিদের মধ্যে ছিলেন ৬টি মুসলিম ও ১টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার।

✅ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ পরিণয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

✅ ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

✅ যৌতুক ও সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোগে জমকালো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবদম্পতিদের শুভ পরিণয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি।

আয়োজকরা জানান, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, মাদক ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ আন্দোলনের নতুন কার্যক্রম হিসেবে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে খাদ্য উপমন্ত্রী থাকাকালেও একই ব্যানারে সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছিলেন বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে সজ্জিত জেলা পরিষদ মিলনায়তনে একই রঙের শেরওয়ানিতে বর এবং লাল শাড়িতে কনেদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। মন্ত্রী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সাত জুটির বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, গত ঈদুল আজহার সময় যৌতুকবিহীন গণবিয়ের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, শুক্রবার রাতে তারই বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে কোনো ধরনের যৌতুক বা দেনমোহরবহির্ভূত লেনদেন ছাড়াই ছয়টি মুসলিম ও একটি হিন্দু পরিবার নতুন জীবনে যাত্রা শুরু করেছে।

নবদম্পতিরা যৌতুকমুক্তভাবে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করে বলেন, সমাজের তরুণদের যৌতুকবিহীন বিয়েকে উৎসাহিত করা উচিত।

বর-কনের অভিভাবকরাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এমন আয়োজন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এতে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় সামাজিক চাপ কমবে, অন্যদিকে যৌতুক প্রথা নিরুৎসাহিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক।

বক্তারা বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর এ উদ্যোগ শুধু জেলার জন্য নয়, সারা দেশের জন্যই একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে। যৌতুক ও সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন