
তীব্র গরমে জনদুর্ভোগ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলমান ভ্যাপসা গরমে ও তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী এবং শিশু-বয়স্করা।
প্রচণ্ড রোদ ও গরম থেকে রেহাই পেতে অনেকেই ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, শরবত ও বিভিন্ন ফলের জুস পান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। অফিস-আদালত ও বাজার এলাকাতেও মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। বাইরে বের হলে অনেকে ছাতা বা মাথা ঢাকার ব্যবস্থা করে প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন।
তাপদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের আয়ের ওপর। যাত্রী ও ক্রেতা কমে যাওয়ায় তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সবুজপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক সেল্টু মাহমুদ, মিয়া গ্রামের মমিনুর রহমান ও মনতাজ হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় ভাড়া মিলছে না। ভ্যান চালানোই তাদের একমাত্র জীবিকা হওয়ায় পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মাগুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুদি ব্যবসায়ী লিমন মিয়া বলেন, প্রচণ্ড গরমে দোকানে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। তার ভাষায়, বিদ্যুৎ থাকলেও ফ্যানে গরম কমছে না, আর লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যেও। স্থানীয়দের দাবি, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে পল্লী চিকিৎসক ও ওষুধের দোকানগুলোতে রোগীদের ভিড়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী জেরিন আক্তার ও কায়দে আজম বলেন, অতিরিক্ত গরম ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিরাজাম মুনিরা বলেন, গরমের কারণে খাবারে রুচি কমে গেছে এবং পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বৃষ্টিপাত হলে তাপদাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

