
স্থায়ী সংস্কারের আশ্বাস
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চিনাশুকানিয়া এলাকায় ধসে পড়া শ্রীপুর-দমদমা সড়ক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাইলিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুকানিয়া এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে ধসের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক সয়েল টেস্টে দেখা গেছে, ওই স্থানের মাটির গঠন দুর্বল। বালু ও মাটির স্তরের মধ্যে ভ্যাকুয়াম তৈরি হওয়ায় সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। এছাড়া ধান মৌসুমে নদীতীর ঘেঁষে ভারী যানবাহনের চলাচলও ধসের অন্যতম কারণ হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কবরস্থান সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সড়কের একটি অংশ নদীর দিকে সরিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে সেখানে মাটির ধারণক্ষমতা কম থাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিটার নদীসংলগ্ন সড়কের মধ্যে মাত্র ৮৩ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই অংশের জন্য নতুন নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। বড় ধরনের পাইলিং করে টেকসইভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ধসের ঝুঁকি না থাকে।
নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হলেও ঠিকাদারের জামানতের অর্থ এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। কাজের মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরায় গণমাধ্যমের ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এলজিইডির ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বাবুল আখতার, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্রীপুর-দমদমা-গাজীপুর সড়ক নির্মাণ করা হয়। সূতি নদীর তীরঘেঁষা এই সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথভাবে মাটি কম্প্যাকশন না করা এবং প্রয়োজনীয় ভিত্তি প্রস্তুত ছাড়াই নদীতীরে ব্লক বসানোর কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কয়েক দফা মেরামতের পরও ধস ঠেকানো সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

