প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

পীরগাছায় পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে জনতার হাতে আটক মসজিদের ইমাম

পীরগাছায় গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক মসজিদের ইমাম
আজকের কথা ডেস্ক

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা ইমাম, এলাকায় চাঞ্চল্য

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় এক গৃহবধূর বাড়িতে পরকীয়া করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন এক মসজিদের ইমাম। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আটক ব্যক্তি মামুনুর রশিদ (২৭) উপজেলার মনিরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি নটাবাড়ি শিক্ষা ও কল্যাণ ট্রাস্ট দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং দোয়ানী বড়ভিটা জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নিজ বাড়িতে ‘মা আবাসিক বিদ্যাপীঠ’ নামে একটি আবাসিক কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। তিনি বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে সালমা (২২)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মামুনুর রশিদের সম্পর্ক ছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সালমার বাড়িতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, মামুনুর রশিদ সালমাকে বিয়ে করতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে মামুনুর রশিদের প্রথম স্ত্রীর আপত্তি এবং সালমার বর্তমান বৈবাহিক অবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট কাজী বিয়ে নিবন্ধনে সম্মত হননি। এতে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আটক ইমামের ছোট ভাই মাসুদ অভিযোগ করেন, তার ভাইকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে তাকে ছেড়ে না দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

মামুনুর রশিদের বাবা আব্দুল মজিদ বলেন, তার ছেলে মুলাটোল কামিল মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে নটাবাড়ি শিক্ষা ও কল্যাণ ট্রাস্ট দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা এবং একটি মসজিদে ইমামতি করছেন।

এ বিষয়ে পীরগাছা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রিন্ট করুন