
দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েও ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (চায়না জাল)। এতে রেণু, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (৪ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ের বিভিন্ন স্থানে দিন-রাত চায়না দুয়ারি বসিয়ে মাছ শিকার চলছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের এই নিষিদ্ধ ফাঁদে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু, পোনা ও ডিমভর্তি মাছও আটকা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ এ জাল ব্যবহার হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের অভাবে অসাধু জেলেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা।
উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মজিবুর মাতুব্বর বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। মাছ ডিম দেওয়ার আগেই নিধন হওয়ায় আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।”
একই উপজেলার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, “চায়না দুয়ারি পানিতে বসানোর পর প্রায় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। ছোট মাছও রক্ষা পায় না। কয়েকজনের লাভের জন্য পুরো এলাকার মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। এ ধরনের অবৈধ জাল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সূক্ষ্ম ফাঁসের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে দেশীয় মাছ ডিম ছাড়ার সময় এ ধরনের জাল ব্যবহার জলজ পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য বড় হুমকি। এ কারণেই সরকার বহু আগে থেকেই চায়না দুয়ারি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ বসু বলেন, “চায়না দুয়ারি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে আরও জোরালো অভিযান চালানো হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দেরও এ বিষয়ে সচেতন হয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”

