
জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ডাকা হয়েছিল সালিশি বৈঠক। কিন্তু সেই সালিশি বৈঠকেই রক্তাক্ত পরিণত হয় রক্তাক্ত সংঘর্ষে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির (জাপা) ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫)। এ ঘটনায় দুই নারীসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়া চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে এবং স্থানীয় জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোলজার হোসেন (৬৫), তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৪৫), ছেলে লিটন মিয়া (২৮) ও রিপন মিয়া (১৯) এবং মেয়ে রত্না আক্তার (৩০)-কে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত আছর উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের ঘরের ছেলে গোলজার হোসেনের সঙ্গে আছর উদ্দিনের আপন ছেলে আমজাদ হোসেনের ২২ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিশি বৈঠক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গোলজার হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা রোসনা বেগম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান এবং বিএনপি নেতা বাবুল আহমেদের সামনেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেন, সালিশি কার্যক্রম শুরুর আগেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে মৃত্যুর খবর পেয়ে আর সেখানে যাননি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

