প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্লাসে পাঠ নয়, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ম্যাসাজ! ডিমলায় ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, তদন্তে প্রশাসন

ডিমলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ম্যাসাজ করানোর অভিযোগের ঘটনায় প্রশাসনের তদন্ত।
আজকের কথা ডেস্ক
সংবাদের হাইলাইটস
ডিমলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকদের শরীর ও মাথায় ম্যাসাজ করানোর অভিযোগে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের শোকজ এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে; তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবক ও সচেতন মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি, নিয়মিত তদারকি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নীলফামারীর ডিমলায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষের ক্লাসে পাঠ নয়, পাঠদান উপেক্ষা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো এবং শরীর ও মাথায় ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে প্রশাসন ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে শরীরে ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এর আগে, গত ২৫ জুন উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মীয় শিক্ষিকা তিলোত্তমা রানী রায়ের বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ও মাথায় ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মারুফা বেগম লিজা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। যদিও এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, উপজেলার অনেক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাই নিজেদের সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেও সরকারি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে যথাযথ আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন না। তাদের মতে, এটি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটেরও প্রতিফলন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে শোকজ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকাকেও ৬ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন একাডেমিক সুপারভাইজার আমির হামজা বোরহান উদ্দিন এবং ব্যানবেইস কর্মকর্তা শাহানুর আলম। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকের ব্যক্তিগত সেবা করানো নৈতিকতা, পেশাগত আচরণবিধি এবং শিশুর মর্যাদার পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন