প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

যবিপ্রবিতে খেলা দেখা ঘিরে সংঘর্ষ, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

যবিপ্রবিতে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলের চিত্র।
আজকের কথা ডেস্ক

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনী খেলা দেখা ঘিরে সংঘর্ষ, এতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদের হাইলাইটস
ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ।
ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খেলা চলাকালে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পিএমই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জিমনেসিয়ামের বাইরে অবস্থান নেন।
পরে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়াম থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারের কাছে পৌঁছালে তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন উত্তেজিত শিক্ষার্থী তাদের বাধা দেন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় দৈনিক জনকণ্ঠ-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ এবং সংবাদ পরিক্রমা প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলামের ওপর হামলা, হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে।

হামলার ঘটনায় পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সুজয় দাস এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফিজসহ কয়েকজনের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কিবরিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মাহাফিজ মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আহাদ হোসেন সৈকত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আপনারা টাকা খেয়ে হলুদ সাংবাদিকতা করেন। আমি কোনো সাংবাদিককে মারিনি।”

হামলার শিকার দৈনিক জনকণ্ঠ-এর প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালিয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন এবং তাকে মারধর করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সাব্বির আহম্মেদ অভিযোগ করেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং বারবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, সহকর্মীদের ওপর হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন তার দিকে তেড়ে এসে মোবাইল ভেঙে ফেলার হুমকি দেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ভিডিওসহ সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট করুন