প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

পলাশে বালু ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কান কামড়ে জখমের দাবি

মারধর ও কান কামড়ে আহত বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন
আজকের কথা ডেস্ক

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কান কামড়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। আহত সাখাওয়াত হোসেন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, তার কানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাংলাদেশ জুটমিলের অভ্যন্তরে টিকে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বালু ভরাটের কাজে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তিনি একটি ড্রেজার মেশিন স্থাপন করেছিলেন। সোমবার বিকেলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে ফেরার পথে মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে যান।

তার দাবি, সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ আরও ৬ থেকে ৭ জন তাকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত নেতা তাকে না জানিয়ে ড্রেজার মেশিন বসানোর কারণ জানতে চেয়ে তার কানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে দ্রুত ড্রেজার মেশিন সরিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া বলেন, “সকালে ড. আব্দুল মঈন খানের একটি কর্মসূচি রয়েছে। আমি এখন বিশ্রামে আছি। পরে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা সব বিষয় বিস্তারিত জানাব।”

এ বিষয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন বলেন, “খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রিন্ট করুন