
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানতে গিয়ে দৈনিক জনবাণীর বিশেষ প্রতিবেদক বশির হোসেন খান গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কাছ থেকে অশালীন ভাষা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
“তুই বাস্টার্ড, সামনে দেখা কর, সাইজ করে দেব।”
খালেকুজ্জামান চৌধুরী
প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব)
গণপূর্ত অধিদপ্তর
অভিযোগ অনুযায়ী, বদলি বাণিজ্য সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক বশির হোসেন খান। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের পরিচয় ও তথ্যের উৎস জানতে চান। পরবর্তীতে বদলি, অর্থ লেনদেন এবং পদায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে প্রধান প্রকৌশলী সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, “তুই বাস্টার্ড, সামনে দেখা কর, সাইজ করে দেব।” এছাড়া তিনি আরও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযোগের জবাব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়ার পরিবর্তে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল।
এদিকে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো দুদকের তদন্ত শেষ হয়নি এবং অভিযোগগুলোও বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বদলি হওয়া ৬৫ জন কর্মকর্তার পদায়নকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলী।
অন্যদিকে, প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন, প্রভাব খাটিয়ে পদে বহাল থাকার চেষ্টা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো লিখিত বা বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাংবাদিক বাকি বিল্লাহ দাবি করেন, “প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন তুললেই তিনি হুমকি-ধামকির আশ্রয় নেন। এতে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়ছেন।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

