প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

মুরাদনগরে কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার: ‘বিএনপির লোকেরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে’—স্ত্রীর অভিযোগ

মুরাদনগরের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক ওহেদ ভূঁইয়া
আজকের কথা ডেস্ক

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ওহেদ ভূঁইয়া (৬০) নামে এক কৃষকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি সেচ (ইরি স্কিম) প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

            মুরাদনগরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
“আমার স্বামীকে বিএনপির লোকেরা হত্যা করেছে। সেচ প্রকল্পের বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে।”
নিহতের স্ত্রী
(অভিযোগ অনুযায়ী)

নিহত ওহেদ ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির মৃত দুধ মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি এলাকার একটি সেচ প্রকল্পের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর পশ্চিমপাড়ার আবু সাঈদের পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গলাকাটা মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্বজনরা জানান, সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে ওহেদ ভূঁইয়া বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে পুকুরে তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে বিএনপির লোকেরা হত্যা করেছে। এলাকার সেচ প্রকল্প পরিচালনা নিয়ে বিএনপির কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব বিষয় গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন