
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মোহনপুর ইউনিয়নের ছোটনা গ্রামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডে গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ছোটনা মডেল হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলাকায় অস্থির পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. সেকান্দর আলী, মো. ময়নাল হোসেন, আব্দুল আলীম, আব্দুল কাদের, কাজী নজরুল ইসলাম, আনোয়ারা বেগম, কাজী আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত দুই যুবকের বিরুদ্ধে গত ছয় মাসে একাধিক হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। তারা দাবি করেন, থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা থাকলেও এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ছোটনা গ্রামের দিলন খাঁ বাড়ির বাসিন্দা মোসলেম খানের দুই ছেলে আরিফুল ইসলাম খান (২৬) ও সাইদুল ইসলাম খান (২৪) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। গত ছয় মাসে অন্তত পাঁচটি পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও আদালতে একাধিক মামলাও রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজের জায়গায় বেড়া দিতে গেলে অভিযুক্তরা দা ও লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি দীর্ঘদিন আহত অবস্থায় ঘরবন্দি ছিলেন এবং জীবিকা নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, তার ছেলে রাসেলকে সাইকেল চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় সালিসে চুরির অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অভিযুক্তদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও তারা সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। বরং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী সামসুল হক আক্কাছ জানান, তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকে পানি আনতে গেলে একটি ফুটবল দল নিয়ে মন্তব্য করায় তাকে মারধর করা হয়। পরে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এতে স্বপ্না আক্তার গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি জানান।
গ্রামের প্রবীণ সালিসদার মো. সেকান্দর আলী বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সামাজিক সালিস করা হলেও তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে গ্রামের মানুষ আতঙ্কে বসবাস করছেন। মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

