প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্বরেকর্ড এমবাপ্পের, গোল্ডেন বুট বাঁচাতে মেসির দরকার ৩ গোল

ইংল্যান্ড ম্যাচে গোল উদযাপন করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

এবার বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেই যেন ব্যক্তিগত ইতিহাস নতুন করে লিখলেন ফ্রান্সের সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন এই ফরাসি তারকা।

এমবাপ্পের জোড়া গোলে ভাঙল মেসির বিশ্বরেকর্ড, গোল্ডেন বুট ধরে রাখতে ফাইনালে মেসির সামনে ‘৩ গোলের’ কঠিন সমীকরণ

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকেই গোলের ক্ষুধা নিয়ে খেলতে দেখা যায় এমবাপ্পেকে। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি একের পর এক আক্রমণ সাজান। প্রথমার্ধে গোল না পেলেও বিরতির পর দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে।

মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৯-এ উন্নীত করেন। এরপর ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরোতেই আরও একটি গোল করে চলতি আসরে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপ্পে এখন সবার শীর্ষে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির গোল সংখ্যা ৮। ফলে ফাইনালের আগে এমবাপ্পে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

বর্তমান সমীকরণ: এমবাপ্পে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের শীর্ষে। মেসির গোল ৮। সরাসরি গোল্ডেন বুট জিততে ফাইনালে মেসির প্রয়োজন ৩ গোল। দুই গোল করলে গোল ও অ্যাসিস্ট সমতা এলে ফিফার টাইব্রেকার নিয়ম কার্যকর হবে।

শুধু চলতি আসর নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২২, যা মেসির ২১ গোলকে ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এই কীর্তি গড়ায় ২০৩০ বিশ্বকাপেও তার এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
এখন প্রশ্ন একটাই—মেসি কি গোল্ডেন বুট জিততে পারবেন?

সমীকরণ বলছে, সেটা এখনও অসম্ভব নয়, তবে অত্যন্ত কঠিন। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসিকে অন্তত তিনটি গোল করতে হবে। কারণ ১১ গোলে পৌঁছাতে পারলেই তিনি এমবাপ্পেকে সরাসরি ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করবেন।

অবশ্য মেসি যদি ফাইনালে দুই গোল করেন, তাহলে তার মোট গোল হবে ১০—যা এমবাপ্পের সমান। সে ক্ষেত্রে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে অ্যাসিস্ট বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই ৪টি করে অ্যাসিস্ট রয়েছে। যদি ফাইনালের পর গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান থাকে, তাহলে কম মিনিট খেলা ফুটবলার গোল্ডেন বুটের দাবিদার হবেন। তবে ফাইনালে মেসি পূর্ণ সময় খেললে সেই হিসাবও বদলে যেতে পারে।

ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসি আগেও অসাধারণ সব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। তাই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে বাস্তবতা বলছে, এমবাপ্পের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর গোল্ডেন বুট জিততে হলে মেসিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলতেই হবে।

প্রিন্ট করুন