প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

গোল্ডেন বুট এখন প্রায়ই এমবাপ্পের, ফাইনালে মেসির হ্যাটট্রিক ছাড়া নেই কোন গতি

গোল্ডেন বুটের স্বপ্ন এখন ফাইনালে, মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক :

গোল্ডেন বুট ছাড়া বিশ্বকাপের শিরোপা, গোল্ডেন বল—সবই রয়েছে লিওনেল মেসির অর্জনের ঝুলিতে। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার ক্যারিয়ারে এখনো একটি স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে—বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালই সেই আক্ষেপ ঘোচানোর শেষ সুযোগ। তবে সেই পথ মোটেও সহজ নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখন রীতিমতো কঠিন সমীকরণে পরিণত হয়েছে।

হ্যাটট্রিক নাকি জোড়া গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্ট—গোল্ডেন বুটের সমীকরণে মেসির সামনে কঠিন পরীক্ষা

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন। অন্যদিকে ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। ফলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামার আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দুই গোল পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।

তবে শুধু দুই গোল করলেই মেসির গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে বিবেচনা করা হয় গোলসংখ্যা। গোল সমান হলে দেখা হয় অ্যাসিস্ট। অ্যাসিস্টও সমান হলে বিবেচনায় আসে কে কম মিনিট খেলেছেন। অর্থাৎ সমান সংখ্যক গোল করতে যিনি কম সময় মাঠে ছিলেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন।

বর্তমানে এমবাপ্পে ও মেসি—দুজনেরই ৪টি করে অ্যাসিস্ট রয়েছে। এমবাপ্পে বিশ্বকাপে খেলেছেন প্রায় ৭৬৯ মিনিট, আর মেসির খেলা ৭১২ মিনিট। ফলে ফাইনালে মেসি যদি অন্তত ৫৮ মিনিট মাঠে থাকেন, তাহলে তার মোট খেলার সময় এমবাপ্পের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। সে অবস্থায় কেবল দুই গোল করে সমতায় ফিরলেও টাইব্রেকারে সুবিধা নাও পেতে পারেন।

মেসির সামনে তাই মূলত দুটি বাস্তবসম্মত পথ খোলা রয়েছে।
প্রথমত, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা। এতে তার গোলসংখ্যা হবে ১১, যা এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে সরাসরি গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করবে।
দ্বিতীয়ত, দুটি গোলের পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করতে হবে। সেক্ষেত্রে মেসির গোল হবে ১০ এবং অ্যাসিস্ট দাঁড়াবে ৫। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুট তার হাতেই উঠবে।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। শেষ অনুশীলনে সতীর্থ রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেসদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখা গেছে মেসিকে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মানসিকভাবেও প্রস্তুত আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা অত্যন্ত বিরল কীর্তি। এখন পর্যন্ত মাত্র দুই ফুটবলার এই রেকর্ড গড়েছেন—১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম লেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন মেসিও।
মজার বিষয় হলো, চলতি বিশ্বকাপেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন প্রশ্ন—বিশ্বকাপের শুরুতে যে কীর্তি গড়েছিলেন, ফাইনালের মহামঞ্চে কি তার পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন?

তবে এবার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া নয়, ইউরোপের বর্তমান শক্তিশালী দল স্পেন। তাই কাজটা সহজ হবে না। তবুও মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, অসম্ভবকে সম্ভব করাই যেন তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। গোল্ডেন বুট জয়ের শেষ সুযোগে তিনি আরেকটি ইতিহাস লিখবেন, নাকি এমবাপ্পেই ধরে রাখবেন সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট—সেই উত্তর মিলবে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশিতে।

প্রিন্ট করুন