প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কসবার বিলে নাটকীয় অভিযানে দেবীদ্বারের ধর্ষণ মামলার দুই আসামি আটক

দেবীদ্বারে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার গ্রেপ্তার দুই আসামি
এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক :

দেবীদ্বারে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার, বিলে ঝাঁপিয়ে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একটি বিলের মাঝখানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশও পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের আটক করে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কসবা উপজেলার ডালপাড় বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন, দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। পুলিশ জানায়, তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই এবং সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কসবার ডালপাড় বিলে অভিযান চালানো হয়। পালানোর জন্য তারা পানিতে ঝাঁপ দিলেও পুলিশ ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে অভিযোগের অন্যান্য দিক, বিশেষ করে মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ছোট বোনও একই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা ফুলগাছতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে কিশোরীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। এ সময় স্থানীয়ভাবে দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ৮ জুলাই পুলিশ ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে আনে। একই দিন ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দুই আসামির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এসআই ফিরোজসহ পুলিশের একটি দল কসবার ডালপাড় বিলে অভিযান চালায়। অভিযুক্তরা বিলের মাঝখানে একটি অস্থায়ী ঘরে অবস্থান করছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরাও পানিতে নেমে ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।

ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সবুজ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে ছুরির ভয় দেখিয়ে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ সময় ঘটনা প্রকাশ করলে অ্যাসিড নিক্ষেপ ও তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে তাকে টাকার বিনিময়ে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে সুযোগ বুঝে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সবকিছু জানান।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। এরই মধ্যে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আদালতে তার জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগের সঙ্গে মানবপাচার চক্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন