প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

গবেষণায় বড় বিনিয়োগ: জবির ৬৪২ শিক্ষার্থী ও গবেষক পেলেন প্রায় ৯৬ লাখ টাকার অনুদান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪২ শিক্ষার্থী ও গবেষকের মধ্যে প্রায় ৯৬ লাখ টাকার গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপাচার্যসহ অতিথিরা।
খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক :

মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষকদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটিএনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে অনুদানের অর্থ।

গবেষণায় উচ্চশিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মাস্টার্স (থিসিস), এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের ৬৪২ জন শিক্ষার্থী ও গবেষকের মধ্যে মোট ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকা গবেষণা অনুদান প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। পরে ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (ইএফটিএন) এর মাধ্যমে অনুদানের অর্থ উপকারভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাস্টার্স (থিসিস) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪৯৮ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৯ হাজার ৯৮০ টাকা করে মোট ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৪০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমফিল ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ৪৯ জন গবেষককে জনপ্রতি ২৪ হাজার টাকা করে মোট ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ৯৫ জন পিএইচডি গবেষককে জনপ্রতি ৩৬ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, গবেষণার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আরও আন্তরিক ও মনোযোগী হতে হবে। গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নিতে হলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও গবেষণায় অধিক গুরুত্বারোপের মাধ্যমে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। তিনি অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকদের সফলতা কামনা করে বলেন, সবার সম্মিলিত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উপাচার্য আরও জানান, গত শিক্ষাবর্ষের তুলনায় চলতি বছর গবেষণা খাতে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিনস অ্যাওয়ার্ড, ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, গবেষণা পুরস্কার, মেধা ও আবাসন বৃত্তি, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই ক্লাস ও পরিচয়পত্র বিতরণ এবং শিক্ষকদের জন্য আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ডকুমেন্টের জন্য অনলাইন আবেদন মডিউল চালু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে শিগগিরই ‘কুইক রেসপন্স অ্যাপ’ উদ্বোধন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, গবেষণা পরিচালক, আইকিউএসি ও পিআরআইপির পরিচালক, শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন।

প্রিন্ট করুন