প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

জলাবদ্ধতা কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্ত, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষক বদলি

জলাবদ্ধতায় তলিয়ে ছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পুরো আঙিনা
আজকের কথা ডেস্ক

এইচএসসি পরীক্ষার দিন জলাবদ্ধতায় কেন্দ্র তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় থাকা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাত শিক্ষককে একযোগে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। অপরজন ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

গত ১৩ জুলাই টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পুরো আঙিনা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের নগরের অন্য একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সাত শিক্ষককে বদলির আদেশ জারি করা হয়। তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি করে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। যদিও প্রজ্ঞাপনে জলাবদ্ধতার ঘটনার উল্লেখ নেই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি— ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ বেতনক্রমে বর্তমান পদ থেকে বদলি কার্যকর থাকবে। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে সেদিন অপরাহ্ন থেকেই তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে অবমুক্তি ও যোগদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বদলিকৃতদের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজে, অধ্যাপক আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে নবীনগর সরকারি কলেজে, প্রভাষক আল-আমিনকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমের ছেলে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। তবে অধ্যাপক আবদুল মালেক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বদলির ঘটনায় কলেজজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, কুমিল্লা নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার জন্য তাদের দায়ী করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নগরের ড্রেনেজ সমস্যার কারণে। আমরা তো ইচ্ছা করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করিনি। তাহলে কেন আমাদের এভাবে বদলি করা হলো?”

প্রিন্ট করুন