প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই কুমিল্লা মহিলা কলেজে ৬ শিক্ষকের নতুন পদায়ন

আন্দোলনের পরদিনই নতুন পদায়ন, কুমিল্লা মহিলা কলেজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত
আজকের কথা ডেস্ক

জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে সাত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো না থামতেই ছয়জন নতুন শিক্ষককে পদায়ন ও বদলির আদেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সাত শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচির পরদিনই এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে নতুন এই পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন পদায়ন পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোস্তফা সারওয়ার খান, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মতিন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালেদ ইকবাল জুয়েল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. হাবিব উল্লাহ।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদলিকৃত একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আগেই নতুন শিক্ষকদের পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার দায় শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এর আগে জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজটির সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলির আদেশ দেয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। আন্দোলনের ঠিক পরদিনই নতুন ছয় শিক্ষককে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী/বিএস

প্রিন্ট করুন