

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ঘিরে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে প্রকাশ্যে মারধর, বেঁধে রেখে নির্যাতন এবং পরে তার পক্ষেই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম (৫০) ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে প্রকাশ্যে মারধর ও বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার পর ওই শিক্ষকের পক্ষেই স্থানীয়দের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক আচরণ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে মারধর করেন। পরে তাকে একটি চায়ের দোকানে বেঁধে রেখে নির্যাতনেরও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর শিক্ষকের বক্তব্য ও শিক্ষার্থীর বক্তব্যসংবলিত একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের আগেই একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চিকিৎসাধীন শিক্ষক খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তার পকেটে থাকা ৩৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন জানান, তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের সত্যতা এবং শিক্ষককে মারধরের ঘটনা—উভয় বিষয়েই সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।