

এবার নোয়াখালীতে লক্ষাধিক মানুষের ইসলামী মহাসমাবেশ থেকে ‘হিজবুত তাওহীদ’-কে ‘ঈমান বিধ্বংসী জঙ্গি সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সংগঠনটি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির প্রকাশনা, ওয়েবসাইট, ব্যাংক হিসাব বন্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে, জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে বক্তারা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করে বলেন, ‘হিজবুত তাওহীদ’ সেবামূলক কার্যক্রমের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার মুসলমানের ঈমান নষ্ট করছে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির কর্মকাণ্ড দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই অবিলম্বে সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের দুই অধিবেশনে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, মাওলানা আজিজুল্লাহ নবাব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান ও মাওলানা নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য আলেমরা।
সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে ‘হিজবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা, সংগঠনটির প্রকাশিত বই-পুস্তক, পত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের বিচার এবং সারাদেশে ‘হিজবুত তাওহীদ’-এর দায়ের করা বিভিন্ন মামলার প্রত্যাহার।
এছাড়া ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘হিজবুত তাওহীদ’-এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।