

১২ কোটি টাকার মেঘা প্রকল্পে দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা সড়ক, কাদা-পানি আর সীমাহীন যাতায়াত দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ১২ কোটি ৭ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। বিশেষ করে দারোরা ইউনিয়ন ও কাজিয়াতল এলাকার মানুষের বহুদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৮৭ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উন্নয়নকাজ শুধু দারোরা ও কাজিয়াতলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পর্যায়ক্রমে এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে পুরো মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলায়।
স্থানীয়দের দাবি, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর-বাঙ্গরা) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের দিকনির্দেশনা ও উদ্যোগে এই বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর মামা সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীর নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলেও স্থানীয়রা জানান।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন,
“মাননীয় ধর্মমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে জনগণ শতভাগ সুফল পান। তবে চলমান কাজ নিয়ে কিছু ফেসবুকভিত্তিক ব্যক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা বিভ্রান্তিকর। প্রকল্পের মান নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার বলেন,
“দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ দূর করতে এসব সড়কের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। কাজগুলো দ্রুত শেষ হলে এলাকার মানুষের কাছে আমার দায়বদ্ধতা অনেকটাই পূরণ হবে। এজন্য ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ এবং সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার খবরে দারোরা ইউনিয়ন ও কাজিয়াতল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। বহু বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে এই প্রকল্প পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে তারা আশাবাদী।